mTunes71.ComLogin Sign Up

আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শক্তিকেও পরাভূত করা সম্ভব

In ইসলামিক শিক্ষা - 2017-01-09 10:02 am - Views : 137
আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শক্তিকেও পরাভূত করা সম্ভব

ফিলিস্তেনে আমেরিকার মদদে ইহুদি ইসরাইলের বর্বোরচিত বিমান-কামান-মিসাইল আক্রমনে ৫০০ এর অধিক ফিলিস্তিনি মুসলিম নিহতের প্রতিবাদে দেশবাসি ও বিশ্ববাসির প্রতি
ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্ট ও কসরে হাদী খানকা শরীফের আহবানmosjid
আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় ভাইয়েরা,
আপনারা মনে রাখবেন কেবলমাত্র বেশীবেশী ইবাদতের মাধ্যমেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে সন্তুষ্ট করে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শক্তিকেও পরাভূত করা সম্ভব।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পৃথিবীতে মানুষকে পাঠিয়েছেন শুধু মাত্র

তার ইবাদতের জন্যেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ (সুবঃ) বলেন,“ ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনছা ইল্লা লিয়া বুুদুন।” আর্থাৎ ‘ এবং আমি মানুষ ও জ্বিন তৈরী করেছি শুধু মাত্র আমার ইবাদতের জন্যই।’ কিন্তু দেখা যায় পৃথিবীতে প্রায় ৬৫০ কোটী মানুষ আছে, জ্বিনের সংখ্যা আমরা জানিনা, তাদের মধ্যে কতজন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদত করে ? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ (সুবঃ) বলেছেন সুুরা আরাফ ১৭৭-১৭৯ আয়াত,” যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখান করে ও নিজেদিগের প্রতি জুলুম করে তাহাদিগের অবস্থা কত মন্দ। আল্লাহ যাহাকে পথ দেখান সেই পথ পায় এবং যাহাদিগকে বিপথগামী করেন তাহারাই ক্ষতি গ্রস্থ। আমি তো বহু জ্বিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাহাদিগের হৃদয় আছে তদ্বারা তারা উপলব্দি করেনা, তাহাদিগের চক্ষু আছে তাহারা দেখে না এবং তাহাদিগের কর্ণ আছে তদ্বারা শ্রবন করে না, ইহারা চতুস্পদ জন্তু বরং উহা অপেক্ষাও অধিক নিকৃষ্ট, তাহারাই গাফিল (অজ্ঞ)।”
অর্থাৎ মানুষের অবয়ব হলেও যারা আল্লাহ (সুবঃ) ও তার রাসূলের (স.) প্রতি ইমান আনেনা তাদের কে মানুষের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। তবে পৃথিবীর শাসন ক্ষমতা ও তথাকথিত সভ্যতার ধ্বজাধারী আমেরিকা, বৃটেন, চীন, রাশিয়া, জাপান, ফ্রান্স, ভারত ইত্যাদির অধিবাসী অমুসলিম শাসকরা কি মানুষ নয়? তারা তো বলে আমরাই বর্তমান সভ্যতার জন্ম দিয়েছি, আমরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। কিন্তু আ্ল্লাহ (সুবঃ) তাদেরেকে ইমান না আনাতে চতস্পদ জন্তু ও তার চেয়েও নিকৃষ্ট বলেছেন।
ধরুন একটা বনে বাঘের রাজত্ব। সেখানে বাঘ যাকে খুশী ধরে ধরে খায়। যাকে খুশী তাকে বাচিয়ে দেয়। তার শিকারকৃত প্রাণির উচ্ছিস্ট খেয়ে হায়না, শৃগাল, কুকুর, শকুন, পিপড়া, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণিরা বেচে থাকে। যে বনে সিংহের রাজত্ব সেখানে তার ইচ্ছায়ই সবকিছু হয়। সব প্রাণী তাকে ভয় পায়, সে যাকে খুশি ধরে খায়। বাঘ ও সিংহরা যা নিয়ম কানুন করে তাই বনের আইন।
বর্তমান পৃথিবীতে এমনই বাঘ সিংহের রাজত্ব চলছে। ফিলিস্তিনে পাশতেরও অধিক পালেষ্টাইনী শিশু বৃদ্ধ সহ নিরীহ বেসামরিক মুসলমানদের ইসরাইল আমেরিকার মদদে গত ১০ দিন যাবত সমুদ্র , আকাশ ও জমিন থেকে বোম্বিং করে ও গোলার আঘাতের মাধ্যমে নিহত করেছে। আমরা এর বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই।
ভারতের এক প্রদেশের কিছু দিনমজুরকে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে অন্য প্রদেশে নেওয়ার কথা বলে রাস্তায় তাদেরকে আটকিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। যারা চাহিত মুক্তিপণ তাদের পরিবারের মাধ্যমে যোগার করে দিতে সক্ষম হয় না তাদেরকে নিহত করা হয় বা হাত কেটে, পা কেটে বিদায় করা হয়। এটা কি কোন মানুষের কাজ? হত দরিদ্রের সাথে এটা পশুর ব্যবহার। উন্নত বিশ্বে মা-ছেলে, বাপ-মেয়ে, ভাই-বোন নির্দ্বিধায় যৌনকর্ম করছে। তারা মানুষের অঙ্গ প্রতঙ্গ কেটে কেটে বিক্রি ও ব্যবসা করছে। নারী পুরুষকে আটকিয়ে যৌন ব্যবসা করছে। গেট টুগেদার করছে। পুরুষে পুরুষে, নারীতে-নারীে ত বিবাহ সিদ্ধ করে আইন করছে।চারিদিকে কচি শিশু সহ সকল শ্রেণীর নারী ও পুরুষকে যৌন নির্যাতন করছে, কাউকে কাঊকে মেে ফেলছে। এটা কি সভ্যতার কাজ ? কোন মানুষের কাজ ? ্্এ গুলো পশুর রাজত্বে পশুর কাজ। কক্সবাজারের সমুদ্রে জেলেদের আটকিয়ে মুুুক্তিপণ আদায় করছে। মুক্তিপণ না পেলে তাদের অত্যাচার করে ও মেরে ফেলছে। এসবই উন্নত বিশ্বের পশু সভ্যতার আছর।
আল্লাহ (সুবঃ) র রাজত্বে এ পৃথিবীতে যারা আল্লাহর নির্দেশের বিপরীত কাজ করেছে, তারা কিভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে? তারা আল্লাহর ইবাদতের যোগ্যতা হারিয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে।
পৃথিবীতে আজ ন্যায় বিচার নির্বাসিত। চেচনিয়া, বসনিযা, ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, চীনের সিংকিয়াং (উইঘুর), বর্মার আরাকানী-রোহিঙ্গা, ভারতের কাশ্মীর, আসাম, মোজাফর নগর, হায়দারাবাদের মুসলমানদের নির্যাতনে নিহত করা হচ্ছে। রাশিয়ায় মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে।
২০০৩ সালে আমেরিকা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরাক আক্রমন করে ইরাকের রাজধানী সহ সকল স্থাপনা ধ্বংশ করে। ইরাকের সুপ্রাচীন যাদুঘর মহামূল্যবান পুরাকীর্তি সহ প্রায় সকল শহর বন্দর ধ্বংশ করে এবং সাদ্দাম সহ ১০ লক্ষ নিরীহ ইরাকিকে হত্যা করে। ইরাকের কোটী কোটী টাকার তৈল সম্পদ লুট করে। ইরাকের ব্যাংকের নগদ টাকা ও ভল্টের রক্ষিত ও দোকানে রক্ষিত স্বর্ণ লুটকরে। অথচ এখন বলে ইরাক যুদ্ধ করা তাদের ভুল ছিল। এ ভূলের ক্ষতিপূরণ কে দিবে ? পৃথিবীর কেউ এর বিচার করতে পারবে না। মহান আল্লাহ (সুবঃ) এর বিচার করবেন। আমেরিকা এখন ইরাককে ভাগ করার লক্ষ্যে আই এস দাড় করাচ্ছে।
পৃথিবীর শাসন এখন বাঘ-সিংহের শাসনের মত। তারাতো আল্লাহর বিধান কোনআন অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করে না। ন্যায়বিচার কিভাবে পাবে মানুষ। পবিত্র কোরআন ছাড়া ন্যায় বিচারের মানদন্ড বা কোন দলিল নেই। বর্তমানে তথাকথিত উন্নত শাসকরা তাদের স্বার্থে আইন তৈরী করে।আর এ সব অমুসলিম জনগণ আল্লাহ (সুবঃ) বিধানের অভাবে পশুর মত আচরণ করে। সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি, অবিচার, সবলের অত্যাচার-নির্যাতনে প্রথিবী আজ বন্য সভ্যতায় পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় পর পর দুটি যাত্রি বাহী বিমান ধ্বংশ এবং এর পাচশত সাইত্রিশ জন যাত্রি নিহত হওয়ার ঘটনা মুসলমানদের অর্থনৈতিক ক্ষতি করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে বলে মনে হয়।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য কেবল মাত্র বেশী বেশী ইবাদতে আল্লাহ (সুবঃ) রাজী খুশী বা সন্তুষ্ট করেই পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শক্তিকে পরভূত করে ইসলামিক খেলাফত ও দ্বীনী ন্যায়বিচার কায়েম করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে বৃুখারী শরীফের একটি হাদীস উল্লেখ করছিঃ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘ যখন কোন বান্দা আমার নৈকট্য লাভ করতে চেষ্টা করে- আমার ফরজ ইবাদত করার পরেও তা অপেক্ষা অধিক নফল ইবাদতের দ্বারা। অবশেষে (তাহার নফল এবাদতে সন্তুষ্ট হয়ে) আমি তাহাকে ভালোবাসি, আর আমি যখন তাহাকে ভালোবাসি আমি তাহার কান হয়ে যাই, যদ্বারা সে শুনে, আমি তাহার চোখ হয়ে যাই যদ্বারা সে দেখে, আমি তাহার হাত হয়ে যাই যদ্বারা সে ধরে এবং আমি তাহার পা হয়ে যাই যদ্বারা সে চলে এবং যখন সে আমার নিকট (কিছু) চাহে আমি তাহাকে দেই এবং সে যদি নিরাপত্তা চাহে আমি তাহাকে নিশ্চই নিরাপত্তা দেই। যে আমার (এ ) দোস্তকে দুষমন ভাবে, আমি তাহার সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করি।’
হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার উপর, আপনি তা প্রচার করুন। যদি না করেন তবে তো আপনি তাহার বার্তা প্রচার করিলেন না। এবং আল্লাহ আপনাকে মানুষ হইতে রক্ষা করবেন। নিশ্চই আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে সৎ পথে পরিচালিত করেন না। সুরা মায়েদা-৬৭
মা আস্সালাম।

Googleplus Pint
Admin
Posts 7
Post Views 1,463